ইসলামি আকীদা'হ বিষয়ক কিছু পরিভাষা।

ইসলামি আকীদা'হ বিষয়ক কিছু পরিভাষাঃ 

ইসলামি আকীদা'হ একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আকীদাহ বিষয়ক ত্রুটি মারাত্মক ক্ষতিকর। তাই ইসলামি আকীদা সম্পর্কে জানতে হবে। এজন্য আজ আমরা শুধু আকীদা সংক্রান্ত কিছু পরিভাষা সম্পর্কে জানা যাক।          
কয়েকটি পরিভাষার অর্থঃ 
 ১৷ ঈমানঃ "ঈমান" শব্দের শান্দিক অর্থ বিশ্বাস করা, স্বীকার করা, ভরসা করা, নিরাপত্তা প্রদান করা ইত্যাদি। শরীআতের পরিভাষায় ঈমান বলা হয় রাসূল (সাঃ) কর্তৃক আনীত ঐ সকল বিষয়াদি যা স্পষ্ট ভাবে এবং অবধারিত রূপে প্রমাণিত, সে সমুদয়কে রাসূল (সাঃ)-এর প্রতি আস্থাশীল হয়ে বিশ্বাস করা এবং মুখে তা স্বীকার করা (যদি স্বীকার করতে বলা হয়) আর কুরআন হাদীছ এবং সাহাবায়ে কেরাম ও উম্মতের সর্বসম্মত ব্যাখ্যা অনুযায়ী ধর্মের অবধারিত (ব্দীহী) বিষয়গুলাের ব্যাখ্যা প্রদান করা। সংক্ষেপে ও সাধারণভাবে ইসলামের ধর্মীয় বিশ্বাসকে ঈমান বলা হয়। 
ইসলামি আকীদা'হ বিষয়ক পরিভাষা
ইসলামি আকীদা'হ বিষয়ক পরিভাষা  

২। মুমিনঃ
যার মধ্যে ঈমান আছে তাকে মুমিন বলা হয়। 
৩। ইসলামঃ "ইসলাম" শব্দের শাক্দিক অর্থ মেনে নেয়া, আনুগত্য করা। শরীআতের পরিভাষায় ইসলাম বলা হয় (ঈমান সহ) আল্লাহ ও তাঁর রাসূণের আনুগত্যকে মেনে নেয়া। সংক্ষেপে ও সাধারণ ভাবে হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) কর্তৃক আনীত ধর্মকে ইসলাম বলা হয় বা ধর্মীয় কর্মকে ইসলাম বলা হয়। বিঃ দ্রঃ ঈমান' ও 'ইসলাম' শব্দ দুটো সমার্থবােধক ভাবেও ব্যবহৃত হয়ে থাকে। 
৪।  মুসলমান/মুসলিমঃ ইসলাম' ধর্ম অনুসারীকে মুসলমান বা মুসলিম বলা হয়। ৪। কুফরঃ যে সব বিষয়ের প্রতি বিশ্বাস রাখাকে ঈমান বলা হয়, প্রকাশ্যে তার কোন কিছুকে মুখে অস্বীকার করা বা তার প্রতি অন্তরে বিশ্বাস না রাখা হল কুফর।
৫। কাফেরঃ যার মধ্যে কুফর থাকে সে হল 'কাফের'। 
৬। শিরকঃ আলাহর জাত (সত্তা), তাঁর ছিফাত (গুণাবলী) এবং তাঁর ইবাদতে কাউকে শরীক বা অংশীদার বানানাে হল শিরক।
 ৭। মুশরিকঃ যে শিরক করে তাকে বলা হয় মুশরিক। 
 ৮। নেফাক/মুনাফেকীঃ মুখে ঈমান প্রকাশ করা, প্রকাশ্যে ইসলাম গ্রহণ করা অথচ অন্তরে কুফ্র প্রচ্ছন্ন রাখা-এরূপ কপটতাকে বলা হয় নেফাক বা মুনাফেকী। 
 ৯। মুনাফেকঃ যে মুনাফেকী করে তাকে বলা হয় মুনাফেক।
১০। মুলহিদ/যিনদীকঃ যে মৌলিক ভাবে ও প্রকাশ্যে ইসলাম এবং ঈমান-এর অনুসারী কিন্তু নামায, রােযা, হজ্জ, যাকাত, জান্নাত, জাহান্নাম ইত্যাদি বদীহী ও অবধারিত বিষয়গুলাের এমন ব্যাখ্যা দেয়, যা কুরআন- হাদীছের স্পষ্ট বিরুদ্ধ, এরূপ লােক প্রকৃত মুমিন মুসলমান নয়, কুরআনেরপরিভাষায় তাকে বলা হয় মুলহিদ আর হাদীছের পরিভাষায় তাকে বলা হয় যিনদীক। কারও কারও ব্যাখ্যা মতে সব ধরনের ধর্ম বিরােধী বা মুশরিকদেরকেও যিনদীক বলা হয়। যাবা দাহরিয়্যা বা নাস্তিক, তাদেরকেও যিনদীক বলা হয়ে থাকে। 
১১। মুরতাদঃ ইসলাম ধর্মের অনুসারী কোন ব্যক্তি ইসলাম ধর্ম পরিত্যাগ করলে কিংবা ঈমান পরিপন্থী কোন কথা বললে বা ঈমান পরিপন্থী কোন কাজ করলে তাকে মুরতাদ বলে। সংক্ষেপে মুরতাদ অর্থ ধর্মত্যাগী।
 ১২। ফাসেকঃ প্রকাশ্যে যে ব্যক্তি গােনাহে কবীরা করে বেড়ায় তাকে বলা ফাসেক। আবার ব্যাপক অ্থে সব ধরনের অবাধ্যকে ফাসেক বলা হয়। এ হিসেবে একজন কাফেরকেও ফাসেক বলা হতে পারে, যেহেতু সেও অবাধ্য। 
 ১৩। আকীদাঃ "আকীদা"-এর শাব্দিক অর্থ কোন বিষয়ে বিশ্বাস স্থাপন করা। ইসলামের পরিভাষায় আকীদা অর্থ দৃঢ় ও মজবৃত ঈমান, অকাট্য প্রমাণ ভিত্তিক খবরাখবর ও বিষয়াবলীর প্রতি মনের অটল বিশ্বাস। "আকীদা" শব্দের বহুবচন হল আকাইদ। এ'তেকাদ শব্দটিও আকীদা অর্থেই ব্যবহৃত হয়। এ'তেকাদ শব্দের বহুবচন এ'তেকাদাত।
Previous Post Next Post