আব্বাসীয় খিলাফতের ইতিহাস

আব্বাসীয় খিলাফতের ইতিহাস (তিন সৈনিক ও শসা চাষী)   

আব্বাসী খলিফাদের নামে অনেকেই অনেক মন্দ কথা প্রচার করে। কিন্তু আসল বিষয় হলো বেশিরভাগ আব্বাসি খলিফাই ছিলেন অতিশয় আল্লাহ ভীরু আর ন্যায়পরায়ন শাসক। চলুন আব্বাসি খলিফা মুতাজিদ বিল্লাহ-এর শাসনামলের একটি ঘটনা পড়ে আসি।           

একবার মুতাজিদ একটি এলাকা অতিক্রমকালে একটি শসা ক্ষেতের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন ক্ষেতের মালিক খলিফার সাথে এসে দেখা করে। সে এসে বললো, আপনার কয়েকজন সৈনিক আমার ক্ষেত থেকে কিছু শসা নিয়ে গেছে। খলিফা বললেন, তুমি কি তাদের চিনতে পারবে? 

কৃষক বলল, হ্যাঁ, চিনতে পারব। খলিফা তাকে শিবিরে নিয়ে এলেন। তখন কৃষক, তিনজন সেনার দিকে ইঙ্গিত করে। খলিফা তাদেরকে বন্দি করার নির্দেশ দেন। পরদিন সকালে দেখা গেল সড়কে তিন ব্যক্তিকে শূলীতে লটকে রাখা হয়েছে। লােকজন বিষয়টি নিয়ে নিন্দা করতে থাকে। সামান্য শসা চুরি করার অপরাধে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার ব্যাপারটি তারা কোনােভাবেই মেনে নিতে পারছিল না। আমিরদের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে আলােচনা হতে থাকে।

আব্বাসীয় খিলাফতের ইতিহাস
আব্বাসীয় খিলাফতের ইতিহাস   

কিছুদিন পর খলিফার একজন চাকর খলিফাকে এ বিষয়ে সতর্ক করে। সে বলে ওঠে, লােকজন আপনার সমালােচনা করছে। আপনি রক্তপাতের ক্ষেত্রে তাড়াহুড়াে করছেন বলে তাদের অভিযােগ। মুতাজিদ বললেন, আল্লাহর কসম, আমি খলিফা হওয়ার পর কখনাে কারণ ছাড়া অন্যায় রক্তপাত করিনি। চাকর বলে, আপনি কেন আহমাদ ইবনে তাইয়িবকে হত্যা করেছিলেন? খলিফা বললেন, সে আমাকে গােপনে নাস্তিকতা ও কুষফারর দিকে আহ্বান করত। আমি তাকে নাস্তিকতা ও কুফরির কারণে হত্যা করেছি। চাকর বলল, ঐ তিন ব্যক্তির ব্যাপারে কী বলবেন? তাদেরকে আপনি সামান্য শসা চুরির অভিযােগে হত্যা করেছেন! খলিফা বললেন, এরা সেই তিন শসা চোর নয়। এরা ছিল ডাকাত ও খুনি। তাদের হত্যা করা আবশ্যক ছিল। আমি তাদের কারাগার থেকে এনে হত্যা করেছি, যেন সেনাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তারা যেন সামান্য বিষয়েও সীমালংঘন করতে ভয় পায়। তিন শসা চোরকে হত্যা করিনি। তারা এখনাে কারাগারে আছে।

এরপর তিনি কারাগার থেকে সেই তিন চোরকে মুক্ত করে দেন এবং তাদের তাওবা করান। পরে তাদের কিছু উপহার দিয়ে বিদায় দেন। এই ছিল খলিফা মুতাজিদ বিল্লাহ এর একটি নমুনা।

Previous Post Next Post