ইসলামি স্বর্ণযুগ

অষ্টম শতাব্দী থেকে চতুর্দশ শতাব্দী পর্যন্ত সময়টাকে ইসলামের ইতিহাসে ইসলামি স্বর্নযুগ বলেই বিবেচনা করা হয়। বিভিন্ন দিক যেমন সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক, বৈজ্ঞানিক দিকে এই সময়কালে মুসলিম বিশ্বে এক বিপ্লব হয় বলা চলে৷ তখনকার মুসলিমরা জ্ঞান ও প্রতিপত্তিতে ছিলো অনন্য। ৬২২ খ্রিস্টাব্দে মদিনাতে প্রথম ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়, যার থেকে ইসলামি সাম্রাজ্যের সুচনা। 

স্বর্ণযুগের সুচনা থেকে এর শেষ পর্যন্ত নানা ঘটনা প্রবাহ আমরা ইতিহাসের পাতায় দেখতে পাই।  প্রথমবারের মতো যখন ১২৫৮ সালে মঙ্গোলদের দ্বারা ইমলামী খিলাফতের রাজধানী বাগদাদের পতন হয় তখনকার সময় কেই অনেকে স্বর্নযুগ এর সমাপ্তি বলে বিবেচনা করেন। আবার অনেকে ১৪৯২ সালে ইবেরিয়ান উপদ্বীপের আন্দালুসে খ্রিষ্টান রিকনকোয়েস্টার ফলে গ্রানাডা আমিরাতের পতনকেও এর সমাপ্তিকাল হিসেবে গণ্য করা হয়। আব্বাসীয় খলিফা হারুনুর রশিদের (৭৮৬-৮০৯) সময় বাগদাদে বাইতুল হিকমাহ প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার কারনে জ্ঞানচর্চার প্রভূত সুযোগ সৃষ্টি হয়। 

৯০৯ থেকে ১১৭১ হিজরি সাল পর্যন্ত ফাতেমি সাম্রাজ্য। তখন মিশর সেই সাম্রাজ্যের কেন্দ্রে পরিণত হয় এবং ফিলিস্তিন  সিসিলি, উত্তর আফ্রিকা, ফিলিস্তিন, লেবানন, জর্ডান, সিরিয়া, আফ্রিকার লোহিত সাগর উপকূল, তিহামা, হেজাজ ও ইয়েমেন এর মতো অঞ্চল এ রাজ্যের অন্তর্গত ছিল। তখনকার যুগে মুসলিম বিশ্বের রাজধানী শহর বাগদাদ, কায়রো ও কর্ডো‌বা বিজ্ঞান, দর্শন, চিকিৎসাবিজ্ঞান, বাণিজ্য ও শিক্ষার বুদ্ধিবৃত্তিক কেন্দ্রে পরিণত হয়। 

প্রতীকী চিত্রঃ ইসলামি স্বর্নযুগ 
আরবরা তাদের অধিকৃত অঞ্চলের বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের প্রতি আগ্রহী ছিল। হারিয়ে যেতে থাকা এবং প্রায় বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া অনেক ধ্রুপদি রচনা তখনকার সময়ে আরবি ও ফারসিতে অনূদিত হয়। আরো পরে এগুলো তুর্কি, হিব্রু ও ল্যাটিনে অনূদিত হয়েছিল। প্রাচীন গ্রিক, রোমান, পারসিয়ান, ভারতীয়, চৈনিক, মিশরীয় ও ফিনিশিয় সভ্যতা থেকে প্রাপ্ত জ্ঞান তারা গ্রহণ, পর্যালোচনা ও অগ্রগতিতে অবদান রাখে।

 ইসলামের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়ানক ছিলো মোঙ্গল তাতারদের আক্রমন। আব্বাসী খিলাফার তখন পতন হয়। আর এই পতনের পিছনে আব্বাসী খলিফা নাসিরের একটি ঘৃণ্য চক্রান্ত। 
Previous Post Next Post