খলিফা হারুনর রশীদ ও তার স্ত্রীর একটি ঘটনা।

হারুনুর রশিদের শাসনকালের কথা আলোচনা করতে গেলে তার স্ত্রী বুবাইল বিনতে জাফরের নাম আমাদের সামনে আসে। তিনি ছিলেন হারুনুর রশিদের চাচাতাে বােন। তার শুভ্র চেহারার কারণে তার দাদা খলিকা আবু জার মানসুর তাকে আদর করে নাম দিয়েছিলেন যুবাইদা। রূপের সাথে সাথে যুবাইদার মধ্যে ঘটেছিল অনেক গুণের সমন্বয়, যা তাকে ইসলামের ইতিহাসে স্মরণীয় করে রেখেছে। ১৬৫ হিজরিতে (৭৮১ খ্রিষ্টাব্দ) খলিকা মাহদির শাসনকালে বাগদাদে হারুনুর রশিদের সাথে যুবাইদার বিয়ে হয়। 

প্রতীকী চিত্রঃ Moon 


হারুনুর রশিদ যুবাইদাকে অত্যন্ত ভালােবাসতেন। যুবাইদার গর্ভে হারুনুর রশিদের পুত্র আমিনের জন্ম হয়। মাত্রাতিরিক্ত ভালােবাসার কারণে যুবাইদার সাথে আমি খলিফার খুনসুটি লেগেই থাকত। 

একদিন হারুনুর রশিদ বললেন, আরেকটি বিয়ে করব। যুবাইদা বললেন, এটা আপনার জন্য বৈধ নর। এক কাজ করুন। এমন একজনকে নিয়ে আসুন, যিনি আমাদের দুজনের মধ্যে এ বিষয়টি সমাধান করে দিবেন।তুমি কি সুফিয়ান সাওরির কথা মেনে নিবে? হারুনুর রশিদ জিজ্ঞেস করলেন। হ্যাঁ, মেনে নিব। যুবাইদা বললেন। সুফিয়ান সাওরিকে ডেকে খলিফা বললেন, কুরআনুল কারিমে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন,

যাদের ভালাে লাগে তাদের বিয়ে করে নাও দুই, তিন, কিংবা চারটি পর্যন্ত। (surah nisa, ayah-3)

কিন্তু আমার স্ত্রী আমাকে আরেকটি বিয়ে করতে বাঁধা দিচ্ছেন। 

সুফিয়ান সাওরি বললেন, আপনি আয়াতের বাকি অংশও পড়ুন। আপনি যে অংশ বলেছেন, এর পরেই আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, 

আর যদি এরূপ আশঙ্কা কর যে, তাদের মধ্যে ন্যায়সঙ্গত আচরণ বজায় রাখতে পারবে না, তবে, একটিই। (surah nisa, ayah-3)

সম্ভবত আপনার স্ত্রী আশঙ্কা করছেন আপনি স্ত্রীদের মধ্যে সমতা প্রতিষ্ঠা করতে পারবেন না। খলিফা খুশি হয়ে সুফিয়ান সাওরিকে দশ হাজার দিরহাম উপহার দেওয়ার আদেশ করেন। কিন্তু সুফিয়ান সাওরি তা গ্রহণ করেননি।

Previous Post Next Post