মুহাম্মদ বিন কাসিম (সিন্ধু বিজয়)

উমাবী খেলাফতের মিত্র সিংহলের রাজা একদা ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব ইরাকের গভর্নর হাজ্জাজ বিন ইউসুফের নিকট প্রচুর উপটোকনসহ একদন আরব মহিলা ও শিশুকে নৌজাহাজে করে পাঠিয়েছিলেন। সিংহলের বহু মুসলমান হজ্জব্রত পালনের জন্য এ সফরে যাত্রী হয়েছিল। কাফেলাটি আম্মান সাগরে প্রবেশ করলে বিরূপ আবহাওয়ার কারনে সিন্ধু রাজা দাহিরের কর্তৃত্বাধীন বর্তমান করাচীর অন্তর্গত দেবল বন্দরে ঢুকে পড়ে। 

Muhammad bin kasim
sample image   
এসময় রাজা দাহিরের দস্যু বাহিনী তাদের ধরে নিয়ে যায়। বাচানোর আকুতি করে ভাগ্যক্রমে বেচে যাওয়া এক নারীর নিজ রক্ত দিয়ে একটি চিঠি হাজ্জাজ বিন ইউসুফের কাছে পৌঁছলে তিনি ভীষণ ক্ষুব্ধ হন। তিনি অনতিবিলম্বে রাজা দাহিরকে সকল মুসলিম বন্দীদের মুক্তি দিতে বলে দূত প্রেরণ করেন। দাক্ভিক রাজা তা প্রত্যাখ্যান করে দূতকে হত্যা করে।


ফলে ক্ষুব্ধ হয়ে হাজ্জাজ সিন্ধু আক্রমণের পরিকল্পনা করেন। এ অভিযানে তার ভাতিজা তরুন মুসলিম বীর মুহাম্মাদ বিন কাসিমকে প্রেরন করেন।

৯৩ হিজরি এর ৭ই রমযান মুহাম্মাদ বিন কাসিম সিন্ধু আক্রমণ করে প্রথমেই দেবল তথা করাচি জয় করলেন। একে একে সিহরওয়ান ও নিরুন তথা বর্তমান হায়দ্রাবাদেও কালেমার পতাকা উড্ডিন হল। অতঃপর রাওয়ার নামক স্থানে স্বয়ং সিন্ধুরাজ দাহির বিশাল অশ্ববাহিনী ও হস্তিবাহিনী নিয়ে মুসলমানদের মুকাবিলা করল।

কিন্তু মুসলমানদের বীরত্বের সামনে রাজা দাহিরের বাহিনী ছিন্ন ভিন্ন হয়ে গেল। নিহত হল রাজা দাহির। ক্রমেই পুরো সিন্ধু বিজিত হল মুসলমানদের হাতে। সকল অন্যায় অনাচারকে মুছে দিয়ে সত্য ও ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠা করলেন এ তরুন বীর মুহাম্মাদ বিন কাসেম।

কিন্তু খলীফা সুলাইমান বিন আব্দুল মালিকের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বলি হয়ে অকালেই ঝরে পড়তে হল তাকে। নির্মম নির্যাতন সয়ে পৃথিবী থেকে বিদায় নিলেন মহাপ্রতিভাবান এ বীর। সত্যি এ হৃদয়বিদারক ঘটনা কখনোই ভুলবার নয়।

Muhammad bin kasim. The great leader of Islam and in all indian subcontinent.   

Previous Post Next Post