হায়! এই লাশটি যদি আমার হইত!

হযরত আবদুল্লাহ জুল-বেজাদাইন (রাযিঃ) একজন সাহাবী যিনি শৈশবে এতীম হয়ে গিয়েছিলেন। তাই তার মা এবং তিনি চাচার কাছে থাকতেন। চাচা অত্যন্ত যত্নের সহিত তাদের লালন-পালন করতেন। ঘরের কাউকেও না জানিয়ে গােপনে মুসলমান হয়ে গিয়েছিলেন। চাচা জানতে পেরে রাগান্বিত হয়ে উলঙ্গ করে তাকে বাড়ী থেকে বাহির করে দিলেন। তার মাও তাহার প্রতি অসন্তুষ্ট ছিলেন। তবুও, মায়ের মন! ছেলেকে উলঙ্গ দেখিয়া তাহাকে একটি মােটা চাদর দিয়ে দিলেন। তিনি চাদরটি দুইভাগ করিয়া উপরে নিচে পড়ে নিলেন। অতঃপর মদীনা শরীফে হাজির হলেন। এখানে তিনি হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরজায় পাশেই সর্বদা পড়ে থাকিতেন এবং অত্যধিক পরিমাণে ও উচ্চস্বরে যিকির করতেন। 

হযরত আবদুল্লাহ জুল-বেজাদাইন (রাযিঃ)
প্রতীকী চিত্রঃ মুসাফির 

হযরত ওমর (রাযিঃ) বললেন, এইভাবে উচ্চম্বরে যিকির করে, লােকটা কি রিয়াকার? হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে উদ্দেশ্য করে বললেন, না, সে কোমলপ্রাণ লােকদের অন্তর্ভুক্ত। তিনি তবুক যুদ্ধে ইন্তেকাল করেন। সাহাবায়ে কেরাম (রাযিঃ) দেখলেন, রাতে বেলা যদ্ধের ময়দানের পাশে কবরসমূহের নিকট বাতি জ্বলছে। 

নিকটে গিয়ে দেখলেন, হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম  কবরের মধ্যে নেমেছেন এবং হযরত আবূ বকর ও হযরত ওমরকে বলছেন, লও, তােমাদের ভাইয়ের লাশ আমার হাতে উঠিয়ে দাও। তাঁরা উঠিয়ে দিলেন। 

দাফন শেষ হওয়ার পর হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দোয়া করলেন,

আয় আল্লাহ! আমি এই ব্যক্তির উপর রাজী, আপনিও রাজী হইয়া যান। 

হযরত ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) বলেন, এই দৃশ্য দেখিয়া আমার আকাঙ্ক্ষা হইল, 

হায়! এই লাশটি যদি আমার হইত!



Tag: হযরত আবদুল্লাহ জুল-বেজাদাইন (রাযিঃ)। সাহবীদের জীবনচরিত। হায়াতুস সাহাবা। সাহাবীদের আত্মত্যাগ।    

Previous Post Next Post