সুলতান রুকনুদ্দিন বাইবার্স

সুলতান রুকনুদ্দিন বাইবার্স 

বাইবার্স বা বেইবার্স (আরবি: الملك الظاهر ركن الدين بيبرس البندقداري‎‎, আল মালিক আল জহির রুকন আল দিন বেইবার্স আল বানদুকদারি আবু আল ফুতুহ) (১২২৩/১২২৮ – ১ জুলাই ১২৭৭), ছিলেন একজন তুর্কি কিপচাক বংশোদ্ভূত মিশরীয় মামলুক সুলতান। তিনি ফ্রান্সের নবম লুইয়ের সপ্তম ক্রুসেড যুদ্ধে মিশরীয় বাহিনীর একজন সেনাধ্যক্ষ ছিলেন। তিনি ১২৬০ সালে আইন জালুতের যুদ্ধে মিশরীয় সৈন্যবাহিনীর নেতৃত্ব দেন। সে যুদ্ধে মোঙ্গলদের শোচনীয় পরাজয় ঘটে। যেটা ছিল মোঙ্গলদের প্রথম পরাজয় এবং ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় ঘটনা। 

সুলতান রুকনুদ্দিন বাইবার্স
সুলতান রুকনুদ্দিন বাইবার্স

জন্ম ও বিকাশঃ
সুলতান বাইবার্স কিপচাক/কুমেনিয়া (বর্তমান কাজাখস্তান)-এ জন্ম গ্রহণ করেন৷ ছোটকালে দাস ব্যাবসায়ীদের কাছ থেকে আইয়ুবি সুলতান আল-সালিহের এক সেনা কম্যান্ডার ‘আলাউদ্দিন আইতাকিন বান্দুকদার’ তাকে কিনে নেন ৮০০ দিরহামের বিনিময়ে। সুলতান কুতুজের মতো তিনিও একজন মামলুক বা দাস ছিলেন। সেনা কমান্ডার 'আলাউদ্দিন আইতাকিন বান্দুকদারের  নামের সাথে মিল রেখে বাইবার্সের নামের শেষে বুন্দুকদারি উপাধি যুক্ত হয়েছে।  এরপর বাইবার্স কে সবরকমের দ্বীনি শিক্ষা ও সামরিক ট্রেনিং দিয়ে সুলতানের রক্ষীবাহিনীতে প্রেরণ করা হয়। দীর্ঘকায়, কৃষ্ণবর্ণ, নীল চোখের অধিকারী বাইবারস ছিলেন অত্যন্ত সাহসী ও কর্মচঞ্চল। গমগমে কন্ঠস্বরে ছিল কর্তৃত্বের সুর। এক কথায় নেতৃত্বের সব গুণই তার মধ্যে ছিল।

রনাঙ্গনে বীর সেনানী বাইবার্সঃ
১২৪৯ সালে ফ্রান্সের রাজা লুইস মিশরে নবম ক্রুসেডের সূচনা করেন। পোর্ট সিটি ডামিয়েটার পতন হলে লুইসের সেনাবাহিনী নভেম্বরে কায়রোর দিকে যাত্রা করে। ১২৫০ সালের ফেব্রুয়ারিতে সংগঠিত আল মানসুরার যুদ্ধে ক্রুসেডাররা পরাজিত হয় এবং ক্রুসেডের নেতৃত্ব দানকারী সম্রাট ৯ম লুই-কে স্বপারিষদে বন্দী করেন। এটা ছিলো বাইবার্সের বিরাট সাফল্য কেননা ক্রুসেডের ইতিহাসে তিনিই একমাত্র ব্যক্তি যিনি ক্রুসেডে নেতৃত্ব দানকারী কোনো সম্রাটকে স্বপারিষদে বন্দী করেছেন। খোদ ফ্রান্সের সম্রাটকে তুলোধুনো করলেন একজন বীর কমান্ডার। পরবর্তীতে বাইবার্সের বীরত্ব ও সাহসীকতায় ক্রুসেডারদের বিষবৃক্ষের মূলোৎপাটন হয় মিশর আর সিরিয়া থেকে। 

আল-দীন আইয়ুবী ছিলেন আইয়ুবী সাম্রাজ্যের শেষ যোগ্যতম শাসক, যিনি সফলভাবে মিশর এবং সিরিয়া শাসন করতে পেরেছেন। পরবর্তীতে তার স্থলাভিষিক্ত হন আল-মোহাজ্জেম তুরানশাহ এবং কিছুদিনের মধ্যেই তিনি মামলুকদের হাতে নিহত হন। এর পরেই পতন ঘটে আইয়ুবীও রাজবংশের। প্রথম মামলুক সুলতান আইবেকের সাথে কমান্ডার বাইবার্সের পূর্ব শত্রুতা ছিল। তার ফলে বাইবার্স ও অনুসারীরা সিরিয়ায় চলে যান এবং সেখানে কিছু কাল অবস্থান করেন।

মিশরের ৩য় মামলুক তখন সাইফুদ্দিন কুতুজ। মোঙ্গলদের হাতে সিরিয়ার পতনের পর সুলতান কুতুজের আহ্বানে কমান্ডার বাইবার্স মিশরে ফিরে আসেন। ঐ সময়ে মোঙ্গল বাহিনী মিশর আক্রমণের প্রস্তুতি নিচ্ছিলো। সুলতান সাইফুদ্দিন কুতুজও প্রস্তুতি গ্রহণ করেন মোঙ্গল বাহিনীর মোকাবেলা করার। তিনি তার বাহিনীর দ্বায়িত্ব দেন তরুন মামলুক বীর কমান্ডার বাইবার্স কে। অপর দিকে মোঙ্গল বাহিনীর নেতৃত্ব দিচ্ছিলো হালাকু খানের বিশ্বস্ত ও দক্ষ সেনাপতি কিতবুকা। ফিলিস্তিনের গাজার অদুরে আইন-জালুতের প্রান্তরে মুখোমুখি হয় দুই বাহিনী। বাইবার্সের অসামান্য রনকৌশলে মোঙ্গল বাহিনীর শোচনীয় পরাজয় ঘটে। বাইবারসের নেতৃত্বে মুসলিম বাহিনী দীর্ঘ ৩০০ কিলোমিটার পথ তাড়িয়ে গুটি কয়েকজন বাদে সকল হানাদার মঙ্গোল সৈন্যকে হত্যা করে যা বিশ্ব ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় ঘটনা। এ যুদ্ধেই প্রথম বাইবার্সের প্রবর্তিত হাত-তোপ (Hand Cannon) ব্যবহার করে মুসলিম বাহিনী, যাকে 'মিদফা’ বলা হত। আইন-জালুতের যুদ্ধের মাধ্যমে “মঙ্গোলদের পরাজয় অসম্ভব”- এই প্রবাদ বাক্য মিথ্যায় পর্যবসিত হয়। শুধু তাই নয়, এ যুদ্ধের পরেই মঙ্গোলদের জয়রথ পুরোপুরি থমকে দাড়ায়।

যুদ্ধ জয়ের পুরস্কার হিসেবে বাইবার্স সিরিয়ার আলেপ্পো শাসনভার উপহার হিসেবে চেয়েছিলেন, কিন্তু সুলতান সাইফুদ্দিন কুতুজ তাতে রাজি হলেন না৷ যেকারনে, ফেরার পথে বাইবার্সের কথিত একদল আততায়ীর হাতে সুলতান কুতুজের করুণ মৃত্যু ঘটে। সুলতান কুতুজের পর রুকনুদ্দিন বাইবার্স ক্ষমতা গ্রহন করেন।


মোঙ্গল ও ক্রুসেডার দমনঃ
এদিকে আইন-জালুতের পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে হালাকু খান তার বাহিনী নিয়ে ধেয়ে আসেন মিশর-সিরিয়ার দিকে। ফোরাত নদী অতিক্রম করে হালাকু খানের অজেয় বাহিনী আছড়ে পড়ে মামলুক সীমান্তে। চোখের পলকে হিমস পর্যন্ত শামের বিস্তীর্ণ অঞ্চল হালাকু খান ফের কব্জা করে নেয়। ১২৬২ খ্রিষ্টাব্দের জুলাইয়ে শামের বুক চিড়ে আবারও বয়ে চললো রক্ত নদী! কিন্তু না। এবারও তাদের দম্ভ চূর্ণ করলেন দুর্ধর্ষ বীর সুলতান বাইবার্স। অবাক বিশ্ব আবার দেখলো মামলুক চমক! হালাকু বাহিনী ফের টের পেলো এতোদিন কচুকাটা করে আসা কোটি কোটি আয়েশী মুসলিম আর এই মামলুক মুসলিমরা এক নয়। সুলতান বাইবার্স প্রচণ্ড আক্রমণে তাদের পরাজয়ের তিক্ত স্বাদ আস্বাদন করালেন। বাধ্য হয়ে তারা শান্তিচুক্তি করতে চাইল। চাতুর সুলতান তাদের গাদ্দারির দীর্ঘ ইতিহাস সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞাত ছিলেন, তাই তিনি তাদের শান্তি প্রস্তাবে বিন্দুমাত্র কর্ণপাত করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেননি। প্রতিটি রণক্ষেত্রে তাদের পরাজিত করতে থাকলেন। ১২৭৩ খ্রিষ্টাব্দে বীরা নামক স্থানে তাদেরকে শোচনীয়ভাবে পরাজিত করেন। একপর্যায়ে তারা এশিয়া মাইনরের রোম্যান সালজুক সালতানাতের সাথে জোটবদ্ধ হয়ে ১২৭৭ সালে মামলুকদের বিরুদ্ধে এক চূড়ান্ত যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়। এলবিস্তান নামক স্থানে সংগঠিত এই যুদ্ধে সুলতান বাইবার্স শোচনীয়ভাবে পরাজিত করেন মঙ্গোল বাহিনী ও মিত্র সালজুক বাহিনীকে।

এবার তিনি নজর দেন সিরিয়ায় ঘাঁটি তৈরি করা ক্রুসেডারদের প্রতি। সারাহ আইয়ুবীর সময়ের মতো তিনিও ক্রুসেডারদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখেন। আইন জালুতের যুদ্ধের সময় ক্রুসেডাররা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মোঙ্গল বাহিনীকে সাহায্য সহযোগী করে৷ তাই সুলতান বাইবার্স ক্রুসেডারদের শায়েস্তা করার সিদ্ধান্ত নেন। এন্টিয়ক ছিল মধ্য এশিয়ায় ক্রুসেডারদের সর্বশ্রেষ্ঠ ঘাঁটি। সুলতান এন্টিয়ক অবরোধের জন্য একটি বাহিনী প্রেরন করেন এর দীর্ঘকালঁ অবরোধ করে রাখেন। আর্মেনীয় রাজা হিথম তাদের সহায়তায় এগিয়ে আসলে সুলতান অবরোধ তুলে নেন। এরপর ১২৬৩ সালে তিনি ক্রুসেডারদের অন্যতম শক্ত দুর্গ আক্কা অবরোধ করেন। এরপর তিনি একে একে ক্রুসেডারদের সকল দুর্গগুলো গুঁড়িয়ে দিতে থাকেন। ১২৬৫ সালে ক্রুসেডারদের দখলে থাকা জেরুজালেমের নিকটবর্তী কাইসারিয়া ও হাইফা শহরদুটি জয় করেন। বিনা যুদ্ধে জাফাও দখলে নেন। এরপর ৪০ দিনের অবরোধ শেষে আরসুফও দখল করে নেন। ১২৬৬ সালে সাফেদ ও রামলা শহর দুটিও ক্রুসেডারদের দখলমুক্ত করে ফেলেন। এভাবে একের পর রাজ্য হারিয়ে ক্রুসেডাররা অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে কোন কোন ক্রুসেড রাজ্য তাদের দখলে থাকা কিছু ভখন্ড স্বেচ্ছায় সুলতান বাইবার্সকে উপহার দিয়ে তাকে সন্তুষ্ট রাখার চেষ্টা করে।

প্রথমবার যখন সুলতান এন্টিয়ক অবরোধ করেছিলো তখন আর্মেনিয়ার রাজা ক্রুসেডারদের সাহায্যে এগিয়ে আসে ফলে সুলতান অবরোধ তুলে নেন। এবার  সুলতান তার দৃষ্টি নিবদ্ধ করলেন ঔদ্ধত্য প্রদর্শনকারী ক্ষুদ্র আর্মেনীয় সম্রাজ্যের প্রতি। তিনি প্রথমে আর্মেনীয় রাজা হিথমকে আনুগত্য প্রদর্শন ও কর প্রদান করতে বলেন। কিন্তু মঙ্গোলদের চাপে সে এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। ফলে সুলতান বাইবার্স আমির সাইফুদ্দিন কালাউনের নেতৃত্বে একটি বাহিনী প্রেরন করেন তাকে শায়েস্তা করতে। ১২৬৬ সালে সংগঠিত রক্তক্ষয়ী এক যুদ্ধে মামলুকদের হাতে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয় আর্মেনীয় বাহিনী। সিস ও আয়াস নামক দু'টি দুর্গ দখল করে মামলুক সৈন্যরা পাইকারি হারে তাদের হত্যা ও বন্দি করে এবং আর্মেনীয় সম্রাজ্যে ব্যাপক ধ্বংসাযজ্ঞ চালায়। এরপর ধীরে ধীরে এ সম্রাজ্যের বিলুপ্তি ঘটে। ১২৬৮ সালে সুলতান বাইবার্স এশিয়ায় খ্রিস্টানদের দোলনা ও দুর্ভেদ্য ঘাটি খ্যাত এন্টিয়ক জয় করেন। এ সময় ১৬ হাজার ক্রুসেডারকে হত্যা এবং বন্দি করা হয় আরও ১ লাখ ক্রুসেডারকে । এন্টিয়োকের পতনের সঙ্গে সঙ্গে আশেপাশের ছোটখাটো ক্রুসেড রাজ্যগুলিও ভেঙ্গে পড়ে। আর এভাবেই সুলতান বাইবারসের মাধ্যমে মুসলিম ভূখণ্ডগুলো থেকে স্থায়িভাবে ক্রুসেডাররা বিতাড়িত হয়, মুসলিম উম্মাহ ফিরে পায় তার হারানো গৌরব। ক্রুসেডের ইতিহাসে সুলতান বাইবার্সই সব থেকে বেশি ক্রুসেডার হত্যাকারী ও তাদের শহর ও দুর্গ ধ্বংসকারী ব্যক্তি। ক্রুসেডারদের বিরুদ্ধে অসংখ্য যুদ্ধই মূলত তাকে খ্যাতির শীর্ষে নিয়ে গেছে। ইসলামকে রক্ষার জন্য মোঙ্গল ও ধর্মযুদ্ধকারীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে তিনি ইসলামের দ্বিতীয় সালাহ উদ্দিন উপাধি লাভ করেন। 


হাশিশিদের মূলোৎপাটনঃ
সালাহউদ্দিন আইয়ুবীর সময়কালে হাসান বিন সাবাহ কতৃক প্রতিষ্ঠিত গুপ্তঘাতক হাশাশন সম্প্রদায় আবার মাথাচাড়া দিতে শুরু করে। তাই সুলতান বাইবার্স তখন তখন মিশরের হুমকি গুপ্তঘাতক হাশাশিনদের প্রতি দৃষ্টি নিবদ্ধ করেন। ১২৭০-১২৭৩ সালের মধ্যে বাইবার্স তাদের ৯টি দুর্গই দখল করে উক্ত অঞ্চলসমূহকে তার সম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করে নেন। এই আক্রমণে গুপ্তঘাতকদের ক্ষমতা চিরতরে খর্ব করেন তিনি। এইভাবে যবনিকাপাত হয় ত্রাস ও ষরযন্ত্রে ভরা দীর্ঘ এক শাসনকালের। 

বাগদাদের খিলাফত পূনর্প্রতিষ্ঠাকরনঃ
আইন-জালুতের যুদ্ধের আগে হালাকু বাহিনীর হাতে পতন হয় বাগদাদ, সমরখন্দ, আলেপ্পো, বুখারা ইত্যাদি অঞ্চলের। বাগদাদের পতনের সাথে সাথেই পতন হয় আব্বাসীয় খিলাফতের। ১২৫৮ খ্রিষ্টাব্দে বাগদাদে হালাকু খান কর্তৃক আববাসীয় বংশের শেষ খলিফা আল-মুসতাসিম বিল্লাহ নিহত হলে মুসলিম জাহান খলিফাশূন্য পয়ে পড়ে। মামলুক সুলতান বাইবার্স এই খেলাফত পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে মুসলিম বিশ্বের বিরাট উপকার সাধন করেন। তিনি সিরিয়া থেকে আব্বাসি বংশের এক ব্যক্তি আবুল কাসেম আহমাদ বিন মুহাম্মাদ জাহের বিআমরিল্লাহকে স্বসম্মানে ডেকে এনে তার কাছে বাইয়াত করেন। মুসলিম বিশ্বের ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ সৃষ্টিতে খেলাফতের পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব অনস্বীকার্য।

অন্যান্য অবদানঃ
রনাঙ্গনের বীর সুলতান রুকনুদ্দিন বাইবার্স শিল্প ও সংস্কৃতিতেও অসামান্য ভুমিকা রাখতে সক্ষম হন। প্রথমেই তিনি ঐতিহ্যবাহী আল-আজহার মসজিদের সংস্কার করেন এবং সেখানে নব-উদ্যমে লেখাপড়া ও খুংবা চালু করেন৷ চার মাজহাব থেকে প্রতিনিধি হিসেবে চারজন কাযীকে নিযুক্ত করেন বিচারকার্য পরিচালনা করার জন্য। ১২৬২ খ্রিষ্টাব্দে তিনি জেরুজালেম পরিদর্শন করেন এবং সেখানেও পবিত্র স্থানসমুহের প্রয়োজনীয় উন্নয়ন সাধন করেন। তার আমলের স্থাপত্যের মধ্যে তার নামাংকিত মসজিদ এবং বিদ্যালয় (Al-Madrassa al-Zahiriyy) আজও বিদ্যমান। দামাস্কাসে তার সমাধিক্ষেত্রেই আজকের জাহিরিয়া পাঠাগার তৈরী হয়েছে।

কুটনৈতিক দুরদর্শিতাঃ
সুলতান বাইবার্স এর সময়ে তিনি কুটনৈতিকভাবেও ছিলেন বেশ সফল৷ তার আমলে তিনি একই সাথে বেশ কয়েকজন মোঙ্গল শাসক এবং ইউরোপীয়দের সাথে সুসম্পর্ক স্থাপনে সক্ষম হন। কনস্ট্যানটিনোপলের শাসক মাইকেল প্যালিওলোগাসের সঙ্গে তিনি সমঝোতার ভিত্তিতে সুসম্পর্ক স্থাপন করেন। প্যালিওলোগাস ছিল লাতিন খ্রিস্টান বিরোধী। তাই প্যালিওলোগাস তার শহরে ক্রুসেডারদের হাতে বিধ্বস্ত প্রাচীন মসজিদের পুননির্মাণের নির্দেশ দেন।  তিনি গোল্ডেন হোর্ড (ততকালীন মোঙ্গল সাম্রাজ্যের মূল ঘাঁটি) এর সাথে মৈত্রীচুক্তিতে আবদ্ধ হন। মিশরের সাথে যোগাযোগের ফলে বিপুল সংখ্যক মঙ্গোল ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। তিনি সিংহলের সহিত দূত বিনিময় করেন এবং দূরপ্রাচ্যের সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করেন। 

মৃত্যুঃ
১৭ বছরের দীর্ঘ শাসন শেষে ১২৭৭ সালের ২রা মে এ মহান বীর ও শাসক মহান আল্লাহ তাআলা ডাকে দুনিয়া থেকে বিদায় নেন। তাকে দামেসকের জাহিরিয়া পাঠাগারের পাশে দাফন করা হয়।

ইতিহাসের পাতায় আমরা শাসকদের নানা ভালো মন্দ কাজের সাক্ষ্য পাই। প্রত্যেকেই তার নিজ নিজ কাজের বদলা পাবে। তাই আমরা আমাদের এই মহান শাসকদের ভালো কাজগুলোকে সামনে রেখে তাদের জন্য দোয়া করবো। 

Previous Post Next Post