আব্বাসীয় খলিফা মুতাদিদ বিল্লাহ

আব্বাসীয় খলিফা মুতাদিদ বিল্লাহঃ

আবুল আব্বাস আহমেদ ইবনে তালহা আল মুওয়াফফাক (৮৫৪ বা ৮৬১ – ৫ এপ্রিল ৯০২) (আল মুতাদিদ বিল্লাহ (আরবি المعتضد بالله‎‎, "Seeking Support in God") বলে বেশি পরিচিত) ছিলেন ১৬তম আব্বাসীয় খলিফা। ৮৯২ থেকে ৯০২ সাল পর্যন্ত তিনি খলিফার পদে আসীন ছিলেন।

আব্বাসীয় খলিফা মুতাজিদ বিল্লাহ
বাগদাদ
আব্বাসীয় খলিফা মুতাদিদ বিল্লাহ অত্যন্ত সাহসী ছিলেন। খলিফার দ্বাররক্ষী জুয়াইফ সমরকন্দি বলেন, একবার আমি খলিফার সাথে শিকার অভিযানে গিয়েছিলাম। আমি আর খলিফা সেনাদল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে একাকি চলতে লাগলাম। আচমকা ঝােপের আড়াল থেকে একটি সিংহ বেরিয়ে আসে। খলিফা আমাকে জিজ্ঞেস করেন, আমি কি তােমার থেকে কোনাে সাহায্য আশা করতে পারি? 

আমি ভয়ে বলি, আল্লাহর কসম, না। 

খলিফা বললেন, তা হলে কি এটা আশা করতে পারি যে, তুমি আমার ঘােড়াটি ধরে রাখবে আর আমি নেমে সিংহের মুখােমুখি হব? 

তখন আমি বললাম, অবশ্যই। 

খলিফা দ্রুত ঘােড়া থেকে নেমে গেলেন। পােশাকের ঝুলে থাকা অংশ বেঁধে নিলেন। তরবারি কোষমুক্ত করে খাপ আমার দিকে ছুড়ে দিলেন। এরপর তিনি সিংহের দিকে অগ্রসর হলেন। সিংহ খলিফার দিকে লাফ দিল। খলিফা বিদ্যুৎগতিতে সিংহের পা বরাবর আঘাত করে তার পা কেটে ফেললেন। এরপর তিনি আঘাত করলেন সিংহের মাথা বরাবর। সিংহের খুলি ফেটে গেল। সিংহ মাটিতে লুটিয়ে পড়ল। খলিফা সিংহের পশমে রক্তাক্ত তরবারি মুছে আমার নিকট এসে ঘােড়ায় চড়ে বসলেন। 

তারপর আমরা সেনাবাহিনীর সাথে মিলিত হলাম। মৃত্যু পর্যন্ত আমি খলিফার সাথে ছিলাম। কখনাে কারাে সামনে তাকে এই ঘটনা উল্লেখ করতে দেখিনি। আমি জানি না আমি তার কোন আচরণে বেশি বিস্মিত হব! তার সাহসিকতায় নাকি তিনি যে আমাকে তিরস্কার করেননি তাতে, নাকি নিজের এই ঘটনা কারাে সামনে উল্লেখ না করায়?

খলিফা ব্যক্তিগত জীবনে অত্যন্ত সহনশীল ছিলেন। একদিন এক চাকর তাকে বাতাস করছিল। এ সময় তার পাখার আঘাতে খলিফার টুপি পড়ে যায়। সবাই ভীত হয়ে ওঠে। খলিফা অত্যন্ত স্বাভাবিক কণ্ঠে বললেন, তােমার ধুম আসছে। যাও, গিয়ে বিশ্রাম নাও। অন্য কাউকে ডেকে আনাে। পরে খলিফা একজনকে বলেছিলেন, এই বেচারা ইচ্ছাকৃত ভুল করেনি। তাই তাকে তিরস্কার করারও কিছু নেই। 

খলিফা মুতাজিদ সম্পদ ব্যয় করার ক্ষেত্রে খুব হিসেবি ছিলেন। এজন্য অনেকে তাকে কৃপণ বলত। কিন্তু বাস্তবতা হলাে তিনি রাজ্য ও প্রজাদের দিকে তাকিয়ে এমনটি করতেন। তিনি মৃত্যুর আগে বাইতুল মালে এক কোটি সত্তর লক্ষ দিনার রেখে গিয়েছিলেন। তিনি একজন যোগ্য শাসক ছিলেন। তিনি আব্বাসিদের পতনকালে নতুন করে হাল ধরেছিলেন। তাই তাকে দ্বিতীয় আবুল আব্বাস বলা হয়।

Previous Post Next Post