রােযার কাফফারা ও রোজার ফিদিয়া : রোজার মাসায়েল (৪র্থ পর্ব)

সুবেহ সাদেক থেকে সূর্যান্ত পর্যন্ত নিয়ত সহকারে ইচ্ছাকৃতভাবে পান, আহার ও যৌন তৃপ্তি থেকে বিরত থাকাকে রােযা বলা হয়। প্রত্যেক আকেল (বােধ সম্পন্ন), বালেগ (বয়সপ্রাপ্ত) ও সুস্থ্য নর-নারীর উপর রমযানের রােযা রাখা ফরয। ছেলে মেয়ে দশ বৎসরের হয়ে গেলে তাদের দ্বারা (শাস্তি দিয়ে হলেও) রােযা রাখানাে কর্তব্য। এর পূর্বেও শক্তি হলে রােযা রাখার অভ্যাস করানাে উচিত।  রোজা পালন উপলেক্ষ আল্লাহ তাআলা বলেন, 

"হে মুমিন সকল! তোমাদের উপর রমজানের রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমনিভাবে তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপরও ফরজ করা হয়েছিল। যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পার। (সূরা বাকারা-১৮৩)"

রোজার মাসায়েল সম্পর্কে বিগত পর্বে কি কারণে রোজা কাযা করার অনুমতি আছে তা সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। আবার কিছু ক্ষেত্রে রোজা শুধু কাযা করলেই হবে না বরং তার কাফফারা আদায় করতে হবে। এ পর্বে আমরা রোজার কাফফারা ও রোজার ফেদিয়া সম্পর্কে জানবো। 

রোজার কাফফারা ও রোজা ফেদিয়া
রোজার কাফফারা ও রোজার ফিদিয়া ( source: pixels.com)

রোজার কাফফারার মাসায়েল

১। একটি রােযার কাফফারা ৬০টি রােযা (একটি কাযা বাদেও)। এই ৬০টি রােযা একাধারে রাখতে হবে। মাঝখানে ছুটে গেলে আবার পুনরায় পূর্ণ ৬০টি একাধারে রাখতে হবে। এই ৬০ দিনের মধ্যে নেফাস বা রমযানের মাস এসে যাওয়ার কারণে বিরতি হলেও কাফফারা আদায় হবে না।

২। কাফফারার রােযা এমন দিন থেকে শুরু করবে যেন মাঝখানে কোন নিষিদ্ধ দিন এসে না যায়। উল্লেখ্য, যে পাঁচ দিন রােযা রাখা নিষিদ্ধ বা হারাম তা হল দুই ঈদের দিন এবং ঈদুল আযহার পরের তিন দিন। কাফফারার রােযা রাখার মধ্যে হায়েযের দিন (নেফাসের নয়) এসে গেলেও যে কয়দিন সে হায়েযের কারণে বিরতি যাবে তাতে অসুবিধে নেই।

৩। কাযা রােযার ন্যায় কাফফারা রােযার নিয়তও সুবৃহে সাদেকের পর্বে হওয়া জরুরী।

৪। একই রমযানের একাধিক রােযা ছুটে গেলে কাফফারা একটাই ওয়াজিব হবে। দুই রমযানের ছুটে গেলে দুই কাফ্ফারা ওয়াজিব হবে।

৫। কাফফারা বাবত বিরতিহীনভাবে ৬০ দিন রােযা রাখার সামর্থ না থাকলে পূর্ণ খােরাক খেতে পারে- এমন ৬০ জন মিসকীনকে (অথবা এক জনকে ৬০ দিন) দু'বেলা পরিতৃপ্তির সাথে খাওয়াতে হবে অথবা সদকায়ে ফিতরে যে পরিমাণ গম বা তার মূল্য দেয়া হয় প্রত্যেককে সে পরিমাণ দিতে হবে। এই গম ইত্যাদি বা মূল্য দেয়ার ক্ষেত্রে একজনকে ৬০ দিনেরটা এক দিনেই দিয়ে দিলে কাফফারা আদায় হবে না। তাতে মাত্র এক দিনের কাফফারা ধরা হবে।

৬। ৬০ দিন খাওয়ানাের বা মূল্য দেয়ার মাঝে ২/১ দিন বিরতি পড়লে ক্ষতি নেই।

রােযার ফিদিয়ার মাসায়েল

* "ফেদিয়া" অর্থ ক্ষতিপূরণ। রােযা রাখতে না পারলে বা কাযা আদায় করতে না পারলে যে ক্ষতিপূরণ দিতে হয় তাকে ফেদিয়া বলে। প্রতিটা রােযার পরিবর্তে সাদকায়ে ফিতর (ফিতরা) পরিমাণ পণ্য বা তার মূল্য দান করাই হল এক রােযার ফেদিয়া।

* যার যিম্মায় কাযা রােযা রয়ে গেছে- জীবদ্দশায় আদায় হয়নি, মৃত্যুর পর তার ওয়ারিছগণ তার রােযার ফেদিয়া আদায় করবে। মৃত ব্যক্তি ওছিয়াত করে গিয়ে থাকলে তার পরিত্যক্ত সম্পত্তি থেকে নিয়ম অনুযায়ী এই ফেদিয়া আদায় করা হবে। আর ওছিয়াত না করে থাকলেও যদি ওয়ারিছগণ নিজেদের মাল থেকে ফেদিয়া আদায় করে দেয় তবুও আশা করা যায় আল্লাহ তা কবূল করবেন এবং মৃত ব্যক্তিকে ক্ষমা করবেন।

* অতি বৃদ্ধ/বৃদ্ধা রােযা রাখতে না পারলে অথবা কোন ধ্বংসকারী বা দীর্ঘ মেয়াদী রােগ হলে এবং সুস্থ হওয়ার কোন আশা না থাকলে আর রাযা রাখায় ক্ষতি হওয়ার ভয় থাকলে এমন লােকের জন্য প্রত্যেক রােযার পরিবর্তে ফেদিয়া আদায় করার অনুমতি আছে তবে এরূপ বৃদ্ধ/বৃদ্ধা বা এরূপ রােগী পুনরায় কখনও রােযা রাখার শক্তি পেলে তাদেরকে কাযা করতে হবে এবং যে ফেদিয়া দান করেছিল তার ছওয়াব পৃথকভাবে সে পাবে।

সম্পর্কিত পাতাঃ
৫. রোজার মাসায়েল (৫ম পর্ব)

তথ্যসূত্রঃ
১. আহকামে জিন্দেগী/ইবাদত/রোজার মাসায়েল
Powered by Blogger.