ইমাদউদ্দিন জেনগি : জেনগি রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা

ইমাদ আল-দিন বা ইমাদউদ্দিন জেনগি (রোমানীয় ভাষায় জাঙ্গি, জেনগুই, জেনকি এবং জাঙ্কি) ছিলেন ওঘুজ তুর্কি আতাবেগ যিনি মোসুল, আলেপ্পো, হাম এবং পরে এডেসা শাসন করেছিলেন। ইমাদউদ্দিন জেনগি ছিলেন জেনিগিড, জেনগি বা জেঙ্গি রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা। 


ইমাদউদ্দিন জেনগির বাবা আক-সুনগুর আল হাজিব ছিলেন সেলজুক সাম্রাজ্যের সুলতান মালিক-শাহ প্রথমের অধীনে আলেপ্পোর একজন গভর্নর৷ ১০৯৪ সালে দেশদ্রোহের অভিযোগে মালিক তেকিশ তার শিরশ্ছেদ করে। সেই সময়, ইমাদউদ্দিন জেনগি প্রায় ১০ বছর বয়সের ছোট্ট বালক। বাবার মৃত্যুর পর মোসুলের গভর্নর কার্বোঘা তাকে বড় করেন। ইমাদউদ্দিন জেনগি কারবোঘা মারা যাওয়ার পর মোসুলের শাসক নিযুক্ত হন। 


ইমাদউদ্দিন জেনগি
ইমাদউদ্দিন জেনগি


দামেস্কের আতাবেগ তুগতেকিনের ১১২৮ সালে মৃত্যুর পরে, শাসক শুন্যতার কারণে ক্রুসেডার আগ্রাসন নতুন করে সিরিয়ার উন্মুক্ত হওয়ার পথ তৈরি হয়। ইমাদউদ্দিন জেনগি ১১২৭ সালে মোসুলের আতাবেগ এবং ১১২৮ সালে আলেপ্পোর শাসন ক্ষমতা নিজের হাতে নিতে সক্ষম হন। তিনি তাঁর ব্যক্তিগত শাসনের অধীনে দুটি শহরকে একত্রিত করেন। সুলতান মাহমুদ দ্বিতীয় কর্তৃক তিনি শাসক হিসাবে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনীত করা হন। তাছাড়া ইমাদউদ্দিন জেনগি তরুণ সুলতানকে তার প্রতিদ্বন্দ্বী খলিফা আল-মুস্তারশিদের বিরুদ্ধে সমর্থন করেছিলেন।


১১৩০ সালে ইমাদউদ্দিন জেনগি দামেস্কের তাজ উল-মুলকের সাথে ক্রুসেডারদের বিরুদ্ধে জোট বেঁধেছিলেন কিন্তু ক্রুসেডারদের বিরুদ্ধে তাদের ক্ষমতা বাড়াতে এটি কেবল একটি কৌশল ছিল বলেই ধারনা করা যায়।  তিনি তাজ উল-মুলক এর ছেলেকে বন্দী করেন এবং হামা শহর অবরোধ করেন। ইমাদউদ্দিন জেঙ্গি হোমস শহরকেও অবরোধ করেছিলেন, যার গভর্নর তখন শহরেই ছিলেন। এ অভিযানে তাড়া সফল হলেন না তাই তিনি মোসুলে ফিরে গেলেন, যেখানে সেখানে তাজ উল-মুলক এর ছেলে এবং দামেস্কের অন্যান্য বন্দীদের ৫০,০০০ দিনারের বিনিময়ে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল।  পরের বছর, জেনগি ৫০,০০০ দিনার ফিরিয়ে দিতে সম্মত হন, যদি তাজ উল-মুলক তাকে ইরাকের আল-হিলার আমির দুবাইস ইবনে সাদাকা কে হস্তান্তর করেন। দুবাইস ইবনে সাদাকা যে কিনা দামেস্কে পালিয়ে গিয়েছিল আল-মুস্তারশিদ থেকে বাঁচতে। পরবর্তীতে খলিফার একজন রাষ্ট্রদূত দুবাইসকে ফিরিয়ে আনার জন্য এলে জেঙ্গি তাকে আক্রমণ করে এবং তার কিছু সৈন্যকে হত্যা করে৷ রাষ্ট্রদূত দুবাইস'কে ছাড়াই বাগদাদে ফিরে আসেন।


১১৩১ সালে দ্বিতীয় মাহমুদ মারা যান৷ সেলজুক সাম্রাজ্যে তখন গৃহযুদ্ধ চলছে প্রতিনিয়ত ভাইয়ে ভাইয়ে। যেহেতু সেলজুক রাজকুমাররা পারস্যে একে অপরের সাথে ক্ষমতা দখলের লড়াইয়ে ব্যস্ত ছিল, তাই ইমাদউদ্দিন জেনগি বা জেঙ্গি বাগদাদকে তার রাজত্বের অন্তর্ভুক্ত করার জন্য অভিযান পরিচালনা করেন। কিন্তু তিনি খলিফার সেনাবাহিনী দ্বারা পরাজিত হন এবং তিনি তখন আশ্রয় নেন তিকরিতের শাসক নাজিমুদ্দিন আইয়ুবের (আরবিঃ নাজম আল-দীন আইয়ুব) কাছে। সেই নাজিমুদ্দিন আইয়ুবের স্ত্রীর কোলেই জন্ম গ্রহণ করেন অকুতোভয় বীর সেনানী, ক্রুসেডারদের আতঙ্ক সুলতান সালাউদ্দিন আইয়ুব। যে বছরে সালাহউদ্দীন আইয়ুব জন্ম গ্রহণ করেন সে বছরেই নাজিমুদ্দিন আইয়ুবকে তিকরিত থেকে বহিষ্কার করা হয় ইমাদউদ্দিন জেনগিকে সমর্থন করার অভিযোগে। এসময় ইমাদউদ্দিন জেনগি আইয়ুবী পরিবারকে মসুলে জায়গা দেন, একই সাথে নাজিমুদ্দিন আইয়ুব ও তার ভাই শোরকোহকে দেন গুরুত্বপূর্ণ সেনা পদ। সালাউদ্দিনের উজ্জ্বল ক্যারিয়ারের পথ সুগম করার ক্ষেত্রে নূরউদ্দিন জেনগি তথা জেনগি পরিবারের ভুমিকা অপরিসীম। 


১১৩৩ সালে জেনগি আর্টুকিদ ঘটনার সাথে জড়িত হয়ে পরেন। তিনি আমির তিমুরতাশের (ইলগাজির পুত্র) সাথে তার চাচাতো ভাই দাউদের বিরুদ্ধে জোটবদ্ধ হন। জেনগির আসল আকাঙ্ক্ষা ছিল দক্ষিণে দামেস্কের দিকে। ১১৩৩ সালে জেঙ্গি শামস-উল-মুলক ইসমাইলের সাহায্যের জন্য আবেদন করেছিলেন, যিনি তাঁর পিতা তাজ উল-মুলকের পর দামেস্কের আমির হিসাবে নিযুক্ত হয়েছিলেন এবং তাঁর নিজের নাগরিকের কাছ থেকে তাঁর জীবনের ভয়ে ছিলেন।


ইসমাইল শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য শহরটি জেঙ্গির কাছে সমর্পণ করতে রাজি ছিল।  ইসমাইলের পরিবার বা উপদেষ্টাদের মধ্যে কেউই এটি চায়নি। যার ফলে  ইসমাইলকে তার নিজের মা জুমুররুদ খুন করেছিলেন যাতে করে তাদেরকে জেনগির নিয়ন্ত্রণে না যেতে হয়।  ইসমাইলের পরে তাঁর ভাই শিহাব আল-দীন মাহমুদ শাসক নিযুক্ত হন।


জেনগি এই ঘটনার পরেও নিরুৎসাহিত হন নি এবং যে কোনও উপায়ে দামেস্কে পৌঁছেছিলেন, তখনও তিনি তা দখলের ইচ্ছে পরিত্যাগ করেননি। জেনগির পক্ষ থেকে কোনও সাফল্য না আসায় এই অবরোধ কিছুকাল স্থায়ী হয়েছিল। যার কারণে একটি যুদ্ধবিরতি হয়েছিল, সেখানে শিহাব আল-দীনের ভাই বাহরাম-শাহকে জিম্মি হিসাবে দেওয়া হয়েছিল। 


জেনগি সম্রাজ। জেনগি রাজবংশের সর্বো‌চ্চ এলাকা
জেনগি রাজবংশের সর্বো‌চ্চ এলাকা Wikimedia

অবরোধের খবর খলিফার কাছে বাগদাদে পৌঁছালে খলিফা সেই সময়ে, জেনগি দামেস্ক ত্যাগ করার এবং ইরাকের শাসনের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণের আদেশপত্র সাথে একজন বার্তাবাহক প্রেরণ করেন। কিন্তু তিনি বার্তাবাহককে উপেক্ষা করছিলেন তবে ইমাদউদ্দিন জেনগি শাহিব আল-দ্বিনের সাথে যুদ্ধের শর্ত অনুসারে অবরোধটি প্রত্যাহার করেন। আলেপ্পো ফেরার পথে ইমাদউদ্দিন জেনগি হোমস শহর পুনরায় ঘেরাও করেছিলেন, হোমস এর গভর্নর শাহিব আল-দীনকে সাহায্যের জন্য অনুরোধ করলে তিনি মুইনউদ্দিন উনুরকে সাহায্যের জন্য প্রেরণ করেন। 


সেইবার জেনগি আবারও হোমস ঘেরাও করলে, মু'আন-দীন সফলভাবে এটিকে রক্ষা করেছিলেন।  কিন্তু দামেস্কের শাসক জেঙ্গির বিরুদ্ধে জেরুজালেমের ক্রুসেডার কিংডমের সাথে জোট করেছিল। জবাব স্বরুপ সে বছর, ইমাদউদ্দিন জেনগি/জেঙ্গি বা'রিনের যুদ্ধের সময় একটি ক্রুসেডার দুর্গে অবরোধ করেন এবং ক্রুসেডারদের দূর্গকে গুড়িয়ে দেন।  জেরুজালেমের রাজা ফল্ক আত্মসমর্পণ করতে রাজি হয়েছিল এবং তার বেঁচে থাকা সেনাবাহিনী নিয়ে পালিয়ে যেতে সম্মত হয়।  এদিকে ইমাদউদ্দিন জেনগি বুঝতে পারেন যে, দামেস্কের বিরুদ্ধে তার নতুন অভিযান ব্যর্থ হতে চলেছে, শাহিব আল-দীনের সাথে সন্ধি হয়েছিল কারণ ঠিক সময়ে বাইজ্যান্টাইন সম্রাট জন দ্বিতীয় কোমেনাস প্রেরিত সেনাবাহিনীর দ্বারা আলেপ্পোর মুখোমুখি হতে হয়েছিল। 


বাইজেন্টাইন সম্রাট প্রিন্সিপালিটি অব এন্টিওকে বাইজেন্টইন সৈন্যদল নিয়ে আসেন, তিনি এডেসার জোসেলিন এবং অ্যান্টিওকের রাজা রেমন্ড'কে নিয়ে একটি জোট গঠন করেন। সম্মিলিত বাইজেন্টাইন-ক্রুসেডার হুমকির মুখোমুখি হয়ে ইমাদউদ্দিন জেনগি তার বাহিনীকে জড়ো করেন এবং অন্যান্য মুসলিম নেতাদের কাছ থেকে সহায়তা আহ্বান করেন। এপ্রিল ১১৩৮ সালে বাইজেন্টাইন সম্রাট এবং ক্রুসেডার রাজাদের সেনাবাহিনী শাইজারকে অবরোধ করে, কিন্তু এক মাস পরে জেনগির বাহিনী তাদের ফিরিয়ে পিছু হটিয়ে দেন।


১১৩৮ সালের মে মাসে ইমাদউদ্দিন জেনগি দামেস্কের সাথে একটি চুক্তিতে আসেন। মজা বিষয় হচ্ছে, তিনি একই মহিলা জুমুররুদকে বিয়ে করেন, যিনি তার ছেলে ইসমাইলকে হত্যা করেছিলেন এজন্য যে দামেস্ক ইমাদউদ্দিন জেনগির কবলে চলে যাবে। ইমাদউদ্দিন জেনগি হোমসকে তার যৌতুক হিসাবে গ্রহণ করেছিলেন। 


জুলাই ১১৩৯ সালে জুমুরুরুদের বেঁচে থাকা পুত্র শিহাব আল-দ্বীন গুপ্ত হামলায় মারা যান। জেঙ্গি শহরটি দখল করতে দামেস্কে যাত্রা করেন। মুইন-আল-দ্বীন উনুরের (মুইনউদ্দিন আনার) নেতৃত্বে দামেস্কাস পুনরায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে শিহাব আল-দীনের উত্তরসূরি জামাল আল-দ্বীন আদেশে পুনরায় জেনগির বিরুদ্ধে জেরুজালেমের সাথে জোটবদ্ধ হয়। 


ইমাদউদ্দিন জেনগি জামাল-আল-দীনের পূর্বে অবস্থিত বালবাখ শহর অবরোধ করেন। মুইন-আল-দ্বীন বালবাখ শহরের প্রতিরক্ষার দায়িত্বে ছিলেন। ইমাদউদ্দিন জেনগি তাদের আত্মসমর্পণের জন্য আহ্বান করেন এবং তাদের জানমালের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিলেন কিন্তু মুইন উদ্দিন আত্নসমর্পণ করতে কখনোই রাজি ছিলেন না। ফলে তিনি অবরোধের দ্বায়িত্ব তার লেফটেন্যান্ট নাজিমুদ্দিন আইয়ুব তথা সালাউদ্দিনের পিতাকে দিয়েছিলেন।  জেনগি দামেস্কের অবরোধ ত্যাগ করার পরে, জামাল আল-দীন একটি রোগে মারা গিয়েছিলেন এবং তাঁর পুত্র মুজির আল-দীন তার স্থলাভিষিক্ত হন। মুইন-আল-দীনকে তার উজির নিয়োগ করেন।


জেনগির বিরুদ্ধে পারস্পরিক সুরক্ষার জন্য মুইন আল-দিন জেরুজালেমের সাথে একটি নতুন শান্তিচুক্তি সই করেন। ১১৪০ খ্রিস্টাব্দে মুইন আল-দ্বীন ও ক্রুসেডাররা একসাথে বেনিয়াস ঘেরাও করার সময়, জেঙ্গি আরও একবার দামেস্ক অবরোধ করেন, কিন্তু খুব তাড়াতাড়িই আবার তাকে তা ত্যাগ করতে হয়। পরের কয়েকটি বছর ক্রুসেডার, দামেস্ক এবং জেনগির মধ্যে কোন বড় ধরনের লড়াই বাঁধে নি কিন্তু সে সময় ইমাদউদ্দিন জেনগি উত্তরে প্রচারণা চালিয়ে আশিব এবং হিজানের আর্মেনিয়ান দুর্গকে দখলে নিয়ে নেন।


১১৪৪ সালে, জেনগি ক্রুসেডার রাষ্ট্র এডেসার county of  Edessa অবরোধ শুরু করেন এবং চার মাস অবরোধের পরে ২৪ ডিসেম্বর, ১১৪৪ সালে এটি দখল করে নেন। এই ঘটনা দ্বিতীয় ক্রুসেডকে ত্বরান্বিত করে। পরবর্তীকালে মুসলিম ইতিহাসবিদরা এটিকে ক্রুসেডার রাষ্ট্রগুলির বিরুদ্ধে জি*হা*দের সূচনা হিসাবে উল্লেখ করেছিলেন।


জেঙ্গি ১১৪৫ সালে দামেস্ককে ধরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যান, তবে ১১৪৬ সালের সেপ্টেম্বরে ইয়ারাঙ্কশ(Yarankash) নামে এক ফরাসী খ্রিস্টান দাস তাকে মেরে ফেলেছিল, এন্টিওক রাজা রেমন্ড তাকে উস্কে দিয়েছিল যদিও সে প্রথমদিকে ইমাদউদ্দিন জেনগির বিশ্বস্ত দাস ছিল। সম্পদশালী হওয়া ও বিলাসী জীবন যাপনের লোভ সেই দাসকে পেয়ে বসে। সে ইমাদউদ্দিনের ব্যক্তিগত জিনিসপত্র গোপনে ব্যবহার করতো। একদিন রাতে জেনগির গ্লাসে শরবত পান করা অবস্থায় সে ধরা পড়লে জেনগি তাকে এর জন্য শাস্তি দিবেন বলে হুমকি দেন। এই বলে তিনি ঘুমিয়ে পড়লে দাস তাকে হত্যা করে ফেলে। জেঙ্গি ছিলেন জেনগি রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা। মোসুলের স্থলে তিনি তাঁর বড় ছেলে সাইফ আল-দিন গাজি প্রথম, এবং আলেপ্পোয় তাঁর দ্বিতীয় পুত্র নূর আল-দীনকে স্থলাভিষিক্ত করেন। ১১৯৯ সালে সায়েফ মারা গেলে তৃতীয় পুত্র কুতুব আল-দীন মাওদুদ মোসলে উত্তরাধিকারী হন।


খ্রিস্টান ঐতিহাসিকদের মত অনুসারে, ইমাদউদ্দিন জেনগির মা ছিলেন অস্ট্রিয়ার আইদা (অস্ট্রিয়ার তৃতীয় লিওপল্ডের মা)। যিনি ১১০১ সালে প্রথম ক্রুসেডের সময় বন্দী হয়েছিল এবং তাকে দাস হিসেবে কিনে নেয়া হয়েছিল। মজার বিষয় হলো, ১১০১ সালে সেই মহিলার বয়স ছিলো ৪৬ বছর। এদিকে বিশ্বস্ত মতে এটা প্রমাণিত যে, ১০৯৪ সালে জেনগির পিতা মেলিক তেকিস দ্বারা নিহত হন, যখন ইমাদউদ্দিন জেনগির বয়স ১০ প্রায়। ইমাদউদ্দিন জেনগি জন্মগ্রহণ করেন ১০৮৫ সালে। তাই খ্রিস্টান ঐতিহাসিকদের মতামত অসম্ভব, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। 


ইমাদউদ্দিন জেনগি সাহসী ছিলেন, নেতৃত্বের ক্ষেত্রে তার দৃঢ়তা ছিল এবং তাঁর সময়ের সমস্ত মুসলিম বর্ণনাকারী দের মতে তিনি অত্যন্ত দক্ষ যোদ্ধা ছিলেন।


জেনগি সালাহউদ্দিনের মতো এতটা উদার ছিলেন না যেমনটা তিনি জেরুজালেমে দেখিয়েছিলেন। জেঙ্গি ১১৯৯ সালে বালবাখে তাঁর বন্দীদের রক্ষার প্রতিশ্রুতির কথা রাখেন নি। 


 ইবনে আল-আদিমের মতে:


তিনি ছিলেন হিংস্র, শক্তিশালী, বিস্ময়কর এবং হঠাৎ আক্রমণ করার জন্য তিনি ছিলেন অনন্য। 



তিনি আরো বলেন, 


"When he rode, the troops use to walk behind him as if they were between two threads, out of fear they would trample over crops, and nobody out of fear dared to trample on a single stem (of them) nor march his horse on them… If anyone transgressed, he was crucified. He (Zengi) used to say: "It does not happen that there is more than one tyrant (meaning himself) at one time."


ইমাদউদ্দিন জেনগি ইসলামি ইতিহাসের এক উজ্জ্বল নাম। আল্লাহ তাআলা তাদের জান্নাত দান করুক যারা তার দ্বীনের জন্য লড়াই করে। - আমিন। 


কীওয়ার্ডঃ ইমাদউদ্দিন জেনগি, জেনগি রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা, নূরউদ্দিন জেনগির পিতা,  ইমাদুদ্দিন জেনগি,  ইমাদউদ্দিন জাঙ্গি, ইমাদউদ্দিন জেঙ্গি।

Previous Post Next Post